।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
এলনিনোর প্রভাবে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে গত রবিবার এবং সোমবার ২ দিনে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২ জন শিশুও আছে।
সোমবার ২২ জুন (স্থানীয় সময়) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায় বলে জানা গেছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর প্রথমবারের সোমবার মতো দেশের অর্ধেক অঞ্চলে সর্বোচ্চ মাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে দেশটির কয়েক শত স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফ্রান্সের বোর্দো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর ও সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় জনবহুল বন্দরশহর বোর্দেওক্সে রবিবার এবং সোমবার তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪১.৯ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলাসিয়াস। এটি একটি রেকর্ড, বোর্দেওক্সের ইতিহাসে এর আগে কখনও তাপমাত্রা এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
গরম-তাপপ্রাবহের কারণে এ শহরটিতে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই বয়স্ক এবং বয়সক ৮০ থেকে ৯৫ বছরের মধ্যে। এছাড়া দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় জেলা কার্পেন্ত্রাসে গরমে গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২ এবং ৪ বছর বয়সী দু’জন শিশুর।
বাকি ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। তীব্র গরমে স্বস্তির জন্য ফ্রান্সের লোকজন নদী, হ্রদ, সাগরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নেমে দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন।
ফ্রান্সের বেসামরিক নিরাপত্তা পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র জেরোম বওল্যাঙ্গার রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, “লোকজনকে আমরা বার বার বলছি যে কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় থাকা জলাশয়গুলোতে সাঁতার কাটুন।”
গরমের কারণে স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের সময়সূচিও পরিবর্তন এনেছে ফ্রান্স। সকালে প্যারিস অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গণপরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
এবারের জুনে শুধু ফ্রান্স নয়, পুরো ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ স্যান সেবাস্টিয়ান ভৌগলিক ও ঐতিহ্যগতভাবে শীতল অঞ্চল। জুন মাসের ভরপুর গ্রীষ্মেও সাধারণত সেখানে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
কিন্তু এবারের গ্রীষ্মে এই চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে। স্পেনের আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল ২২ জুন স্যান সেবাস্টিয়ানের তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রেকর্ডভাঙ্গা গরমে পুড়ছে যুক্তরাজ্যও। দেশটিতে সর্বোচ্চ উষ্ণ জুনের রেকর্ড হয়েছিল ১৯৫৭ এবং ১৯৭৬ সালে। ওই দুই বছর তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারের জুন মাসে গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যজুড়ে তাপমাত্রা ছিল স্থানভেদে ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে যে তাপপ্রবাহ চলছে, তা ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত। ‘ওমেগা ব্লক’ হলো এমন বিশেষ একটি আবহাওয়া পরিস্থিতি, যেখানে একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মাঝখানে গরম বাতাসের একটি স্ফীতি থাকে এবং দু’পাশে থাকে শীতল বাতাস।
ব্রিটেনের এই জলবায়ু গবেষয়ক বলেন, “বর্তমানে আমরা যে ওমেগা ব্লকে আছি, সেটি উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা থেকে উষ্ণ বাতাস টেনে আনছে এবং একারণেই আমরা এই প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ অনুভব করছি। এটি খুব ধীর গতিতে এগোচ্ছে, ফলে স্বস্তি দেওয়ার মতো কোনো বাতাস বা মৃদু হাওয়া নেই।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ ও ঝড় আরও তীব্র হচ্ছে, যা তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাত উভয়েই বাড়াচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স