Breaking News:


ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  • ১১:৪১ এএম, সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাতীবান্ধার ছয়টি ইউনিয়নসহ পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রেড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং মাইকিং করে তিস্তাপারের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

রবিবার ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ মিটার। যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২.১৫ মিটার) ১০ সেন্টিমিটার ওপরে।

এদিকে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সোমবারও ৬ অক্টোবর পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাটসহ নীলফামারী ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পুকুর, আমনের খেত ও আগাম শীতকালীন সবজির খেত।

পাউবো সূত্র জানায়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.২৫ মিটার, যা স্বাভাবিক বিপৎসীমা ৫২.১৫ মিটারের ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হাতীবান্ধার সিন্দুর্না ইউনিয়নের চরসিন্দুর্না এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তাদের এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে, বাড়িঘরে পানি উঠেছে এবং পরিবার নিয়ে তারা কষ্টে রয়েছেন। পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নের কাতিপাড়া গ্রামের আমির হোসেন বলেন, পানি বাড়ায় রান্না করা এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে বিপাকে পড়েছেন। একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম মিঞা গণমাধ্যমকে বলেন, “নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকেছে। প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতি রোধে কাজ করছে।”

পাউবোর লালমনিরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়েছে এবং বর্তমানে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech