।।বিকে স্পোর্টস।।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হাইতিকে ৩–০ গোলে হারিয়েছে।
‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেল তারা।
অন্যদিকে সেলেসাওদের এই জয়ে ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া হাইতি টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পৌঁছাতে না পারা প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল।
আজ ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির বিপক্ষে ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট এবং অফসাইডে গোল বাতিলের কারণে ব্যবধান বাড়েনি।
দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে সবার উপরে ব্রাজিল। স্কটল্যাান্ডকে আগের ম্যাচে ১-০ গোলে হারানোর পর মরক্কো (+১) শীর্ষে উঠলেও ব্রাজিলের জয়ে নেমে গেছে দুই নম্বরে। হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা স্কটিশরা ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, শেষ ম্যাচে তারা খেলবে আনচেলত্তির দলের বিপক্ষে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা মাতেউস কুনিয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেন। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ ড্রয়ে তিনি মূল একাদশে না থাকায় সমালোচনা হলেও এই ম্যাচে সুযোগ পেয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। প্রথমার্ধে তিনি প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন রিবাউন্ড থেকে বল জালে পাঠিয়ে। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি, যা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই রাখেনি।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রথমার্ধে তিনি নিজেও একটি গোল করেন এবং কুনিয়ার একটি গোলে সহায়তা করেন। যদিও তার একটি শট অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ সকালে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতে ব্রাজিলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখেই খেলা শুরু করেছিল হাইতি। তবে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে খুব বেশি সময় নেয়নি ব্রাজিল। এর মধ্যে ম্যাচের ১২ মিনিটে একবার হাইতির জালে বল জড়িয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে বার্সা তারকার সেই গোলটি বৈধতা পায়নি অফসাইডে।
২২ মিনিটে আবারও সহজ সুযোগ মিস করেন রাফিনিয়া। হাইতি গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। তবে গোলের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলকে। পরের মিনিটেই ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দে ভাসান কুনিয়া।
ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে হাইতি বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। হাইতি গোলকিপার সেটি ঠেকালেও নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে শট নিয়ে হাইতির জালে বল জড়ান কুনিয়া।
৩৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। সেলেসাওদের এ গোলটিও এসেছে ভিনিসিয়ুস-কুনিয়া জুটিতে। মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে কিছুটা এগিয়ে দারুণ এক ডিফেন্সচেরা পাস দেন ভিনিসিয়ুস। সেই পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে স্কোরলাইন দ্বিগুণ করেন কুনিয়া।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান ভিনিসিয়ুস। লুকাস পাকেতার বাড়ানোর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান রেয়াল মাদ্রিদ তারকা। তাতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই গতিতে খেলতে থাকে সেলেসাওরা। তবে হাইতিও বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছিল এর মধ্যে একবার গোলকিপার আলিসন বেকার ও ডিফেন্ডার দানিলোর দক্ষতায় গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় ব্রাজিল।
অন্যদিকে ৬৯ মিনিটে অল্পের জন্য আরেকটি গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। বদলি নামা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। ৯ মিনিট পর জালে বল জড়িয়েছিলেন বদলি নামা এনদ্রিক। কিন্তু সেটাও অফসাইডের কারণে গোল হিসেবে গণ্য হয়নি।
ম্যাচের শেষ দিকে চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল পায়নি কোনো দল। তাতে ৩-০ ব্যবধানের জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ব্রাজিলকে। আজকের জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠল ব্রাজিল। সমান ম্যাচে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে স্কটল্যান্ড, আর তলানিতে থাকা হাইতি এখনো কোনো পয়েন্ট আদায় করতে পারেনি।