।।বিকে রিপোর্ট।।
রংপুরের পীরগাছায় পদ্মরাগ কমিউটার ট্রেনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ৭ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ঢাকার সঙ্গে রংপুর অঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই রুটে আটকা পড়া ট্রেনযাত্রীরা।
মঙ্গলবার ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ৬ বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রংপুর ও লালমনিরহাটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কিছু ট্রেন আটকা পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পদ্মরাগ ট্রেনটি লালমনিরহাট যাচ্ছিল। পীরগাছা রেলওয়ের আউট সিগনালের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
আরও জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ কমিউটার ট্রেনটি সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের সঙ্গে ক্রসিংয়ের জন্য পীরগাছা রেলস্টেশনে ২নং লাইনে অবস্থান করে। ক্রসিং শেষে ট্রেনটি লালমনিরহাটের উদ্দেশ্যে গমনের জন্য লাইন পরিবর্তন করার সময় এর ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লালমনিরহাট থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এ সময় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে দেখা গেছে। পদ্মরাগ কমিউটার ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে সেখানে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উদ্ধার কাজে গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও কিছু কিছু যাত্রীর মালামাল খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় করছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জেনারুল ইসলাম জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে আন্তঃনগর রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, বুড়িমারি এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, মেইল ট্রেন দোলনচাঁপা, করতোয়া, পদ্মরাগ, রামসাগর, কমিউটার ও নাইনটিন আপ-ডাউনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে এসব ট্রেন চলাচল করতে পারবে না।
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শিপন আলী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করে রে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার।