শিরোনাম :
নবম জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর : নাসিমুল গনি নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৯০৩, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি শিশু আছিয়া হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ মৃত্যু সীমান্তে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হবিগঞ্জে রাতের বেলা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০ সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে জামায়াতে ইসলামী দক্ষিণ ইরানে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে কঠোর পাল্টা হামলা চালালো ইরান

সারাদেশে সিঁদুর খেলা ও দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

  • ০৯:২৬ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
সারাদেশে সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলার মধ্যদিয়ে পুজার সমাপনী হলো। এবং দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার।

বৃহস্পতিবার ২ সেপ্টেম্বর সকালে বিজয়া দশমীর বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন হয়। এরপর তেল, সিঁদুর, পান-চিনি নিবেদন করে নয়ন ভিজিয়ে বিদায় জানান ভক্তরা।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে মর্ত্যলোক থেকে দেবী দুর্গার বিদায়। তাই মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের সূর, অশ্রু ভক্তদের চোখে। দেবীকে চোখের জলে বিদায় জানাতে রাজধানীতে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হাজারো ভক্তের সমাগম দেখা গেছে। আবার অপেক্ষা একটি বছরের।

আজ বিকেল ৩টা থেকে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর বিনাস্মৃতি স্নানঘাটে শুরু হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। দুপুরের পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা আসতে থাকে সেখানে। ঢাকের তালে নেচে-গেয়ে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। বিষাদ-আনন্দ এক করে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেন তারা।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত বাবার বাড়িতে কাটিয়ে তিনি ফিরে যান স্বামীর বাড়ি কৈলাসে। এই পাঁচ দিন ভক্তরা দেবী মাকে বন্দনা করেন।

দশমী পূজা উদযাপনের প্রধান আচার ‘সিঁদুর খেলা’। এদিন নারীরা দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরকে সিঁদুর মেখে সমৃদ্ধি কামনা করেন।

আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় আনন্দময়ীর নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় যে উৎসবের শুরু হয়েছিল, দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো সেই দুর্গোৎসবের।

রাজধানীর ২৫৪টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর ১০টি ঘাটে। ঘাটগুলো হলো- বিনা স্মৃতি স্নান ঘাট, ওয়াইজ ঘাট, নবাববাড়ি ঘাট, লালকুঠি ঘাট, তুরাগের ধউর ঘাট, মিল ব্যারাক ঘাট, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট, আমিনবাজার ব্রিজ ঘাট, বসিলা ব্রিজ ঘাট ও বালু নদের কয়েতপাড়া ঘাট।

তবে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হয় বিনা স্মৃতি স্নান ঘাট, ওয়াইজ ঘাট ও নবাববাড়ি ঘাটে।

চট্টগ্রামে প্রতিবছরের মতো এবারও বিসর্জনের প্রধান স্থান ছিল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। কর্ণফুলি নদীর কালুরঘাট, অভয়মিত্র ঘাট এবং বিভিন্ন এলাকার পুকুরেও হয়েছে বিসর্জন। দুপুরের পর থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় পতেঙ্গায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর উপস্থিতি দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ জানান, “এ বছর নগরীর ২৯২টি পূজার মধ্যে শতাধিক মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে পতেঙ্গায়।” জেলায় ১৬ উপজেলায় আরও এক হাজার ৫০৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

শাস্ত্র মতে, এবার দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে সপরিবারে মর্ত্যে এসেছেন গজে (হাতি) চড়ে, আর ফিরে যাচ্ছেন দোলায় (পালকি) করে। গজে আগমন শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা দিলেও দোলায় গমন মহামারী বা বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করে।  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech