শিরোনাম :
সীমান্তে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হবিগঞ্জে রাতের বেলা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০ সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে জামায়াতে ইসলামী দক্ষিণ ইরানে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে কঠোর পাল্টা হামলা চালালো ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পালটাপালটি হামলায় আবারও বাড়লো তেলের দাম রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সহযোগিতা চেয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস- ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা

‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

  • ১২:০৫ পিএম, সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান।

সোমবার ৩১ আগস্ট ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার এশিয়ার ব্যক্তি ও সংগঠনকে অবদানের জন্য দেওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা, যা বিশ্বব্যাপী ‘এশিয়ার নোবেল’ নামে পরিচিত। ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নামানুসারে ১৯৫৭ সালে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয় এবং ১৯৫৮ সাল থেকে এটি নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি বছর ৩১ আগস্ট ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মবার্ষিকীতে বিজয়ীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়

র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর ৬৮তম আসরে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুজন এ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নেতৃত্বের চিরস্থায়ী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটিয়ে মানুষের সেবা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার জন্য রুনা খানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরিতে তার ভূমিকা পুরস্কার কমিটির বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান বলেন, গভীর আনন্দ ও বিনয়ের সঙ্গে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো নেতা একা পথ চলেন না।’ এ স্বীকৃতি তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডশিপের কর্মীদের উৎসর্গ করেন। গত ২৫ বছর ধরে যারা তাদের কাজে আস্থা রেখেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, এই স্বীকৃতি একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। তার কাজের শুরু বাংলাদেশের দুর্গম নদীবেষ্টিত অঞ্চল থেকে। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের মডেল তৈরিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

রুনা খান বাংলাদেশ থেকে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এর আগে ২০২১ সালে বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী, ২০১২ সালে পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ২০১০ সালে এ এইচ এম নোমান, ২০০৫ সালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ২০০৪ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এ পুরস্কার পান।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ম্যাগসাইসাই বিজয়ীদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। একই বছর তার নামে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। প্রতিবছর ৩১ আগস্ট ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী।

২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়টি শ্রেণিতে এই পুরস্কার দেওয়া হতো। এগুলো হলো- সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।  

#

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech