।।বিকে রিপোর্ট।।
গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে- বলেছেন তারেক রহমান।
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে বক্তদানকালে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন আমাদেরকে দেশ গড়তে হবে। দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর বিগত ১৫/১৬ বছরে ধ্বংস হয়েছে। এই ধ্বংস হওয়ার ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। আমাদেরকে এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে এই দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
সমাবেশ উপলক্ষ্যে জুমার পর থেকেই সমাবেশে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। সরজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই ভাসানটেক বিআরপি মাঠ ও আশপাশের সড়কে যুবদল,ছাত্রদল,সেচ্ছাসেবকদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। জনসভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বাদ মাগরিব কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাবেশে যোগ দেন তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত হন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক উপস্থিত হন।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে, ঠিক আমাদেরকে একইভাবে সেটি পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ জবাবদিহিতা থাকতে হবে। অর্থাৎ জনগণ কি চায়, যারা জনপ্রতিনিধি হবে তাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কি? আজকে যেভাবে আমি আপনাদের কাছে সামনে এসে দাঁড়িয়েছি।
আমি আপনাদের সামনে থেকে, আপনাদের কাছে থেকে, আমি আপনাদের সমস্যা যেভাবে জানতে চেয়েছি। আমি চাই, আমার ইচ্ছা, আমার প্রত্যাশা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি আগামী দিন যারা নির্বাচিত হবে তারা এইভাবে জনগণের কাছে গিয়ে জনগণকে সরাসরি জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে তারা জনগণের সমস্যাকে চিহ্নিত করবে এবং এগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারেন। তাহলেই কিন্তু আপনি একমাত্র আপনার এলাকার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। ঠিক কি কথাটা?
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদেরকে আমি আগেই বলেছি। আমাদেরকে যদি এই এলাকার মূল সমস্যার সমাধান করতে হয়। একইসঙ্গে আমাদের যদি এলাকার সারা দেশের সামগ্রিক যে সমস্যাগুলো আছে– মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের শিক্ষা, মানুষের চিকিৎসা এগুলোকে যদি আমাদের এড্রেস করতে হয়, এই সমস্যাগুলোর পর্যায়ক্রমে যদি আমাদের সমাধান করতে হয়, অবশ্যই আগামী দিনে বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।
আমরা দেখেছি, দেশে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ… শুধু আজ এই জনসভায় যে হাজার হাজার মানুষ আপনারা উপস্থিত আছেন, শুধু এই মানুষগুলোই নয়, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। ভালো পরিবর্তন চায়।
কি পরিবর্তন চায়? পরিবর্তন চায় যে মানুষের সমস্যার যাতে সমাধান হয়। মানুষের চলাফেরা, মানুষের নিরাপত্তা, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশের শিক্ষার্থীরা যারা শিক্ষার সুযোগ পায়, দেশের বেকার বা কর্মহীন যারা তরুণ আছে, যুবক আছে। যারা তরুণ সমাজের, যুব সমাজের সদস্য, যারা ছেলে হোক মেয়ে হোক বহু লাল লাখ এরকম আছে। যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে।
আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে প্রতিবছর কর্মসংস্থানের জন্য যায়। কিন্তু এই মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। আমরা চাই, বাংলাদেশের লাখ লাখ যে তরুণ সমাজের সদস্য আছে। নারী হোক পুরুষকে হোক তাদেরকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব। তাদের পড়ালেখা শেষ হোক বা শেষ হওয়ার আগে যাতে দেশের ভেতরেই ব্যবসা-বাণিজ্য করা হোক অথবা দেশের বাইরে হোক, তারা যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, যাতে স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এসময় তিনি একটি শপথ বাক্য পাঠ করে বলেন, আসুন আজকের এই জনসভায় এই যে হাজারো মানুষের জনসভায় আজ আমরা একটি শপথবাক্য পাঠ করি। সেই শপথ বাক্যটি হচ্ছে– করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
এদিকে শুরু থেকে সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।