।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসম্পদ ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উচ্চগতির ৫ টি জাপানী পেট্রাল বোট নৌবহরে যুক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২ জলাই ৫টি পেট্রোল বোট জাপান সরকারের প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করে।
জাপানের অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) এর আওতায় প্রাপ্ত পেট্রোল বোটগুলো সর্বোচ্চ ৩২ মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। এ সকল বোট কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে চলাচলের উপযোগী এবং উচ্চগতিসম্পন্ন হওয়ায় দেশের নদী, মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ‘বানৌজা নির্ভীক’-এ বোটগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতিটি বোটের দৈর্ঘ্য ১৬.১৫ মিটার, প্রস্থ ৩.৫৩ মিটার, গভীরতা ১.৭৮ মিটার ও ধারণ ক্ষমতা ১৩.৫ টন।
দেশের সমুদ্র বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, টহল অভিযান, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও যে কোন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদানে এসব বোট কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, ওএসএ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্র কে সম্প্রসারিত করবে।
এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম প্রধান অতিথি এবং জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিনিধি দল, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে জাপানের সাথে দীর্ঘদিনের পারস্পারিক আস্থা, বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ৫টি উচ্চগতিসম্পন্ন পেট্রোল বোট সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নোট বিনিময়ের মাধ্যমে ২০২৩ সালে নভেম্বরে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রকল্পের কার্যক্রম শেষে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।