শিরোনাম :
কেপ ভার্দের কঠিন পরীক্ষায় পাস করে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা জুলাই শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ শুরু অস্ট্রেলিয়াকে টাই ব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলতে মিশর সরকারি বরাদ্দের সাইকেল নাতনিকে দেওয়া সেই উপজেলা জামায়াতের আমিরকে অব্যাহতি ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু: লোকে লোকারণ্য গ্র্যান্ড মোসাল্লা দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৬৫ বিলিয়ন ডলার দেশের ৫০ শয্যার সকল হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৯টি জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু: লোকে লোকারণ্য গ্র্যান্ড মোসাল্লা

  • ১০:৫৩ এএম, শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

শনিবার ৪ জুলাই সকাল থেকেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লাখ লাখ শোকাহত মানুষ
রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মসাল্লা প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছেন।

আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরুর আগেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের সড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো

এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, পুরো এলাকা শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে ভরে উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল এই কমপ্লেক্সের মূল প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

এদিকে, জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছেন। তাদের জন্য জায়গা করে দিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলোর বাইরে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানের একটি বিশাল হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়। সেখানে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং সাধারণ মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির দাফনে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণ-জানাজায় পরিণত হতে যাচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শোকের পোশাক পরা বিপুলসংখ্যক ভক্ত বন্ধ স্টেশনের গেটের সামনে জড়ো হয়েছেন। তারা গেট খোলার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শ্রদ্ধা জানানোর সময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার তেহরানে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান বলেন, শহীদ নেতার বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আগামীকাল ঠিক সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর আগে কোনোভাবেই তা খোলা হবে না। লোকজনকে এই সময় অনুযায়ী সেখানে আসার পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রেস টিভি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপ্রধান, বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাত দিনব্যাপী দাফনের আনুষ্ঠানিকতা

খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ৩ জুলাই তেহরানে শুরু হয়েছে। এটি ইরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পণ্ডিতরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে। সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মরদেহসহ খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। বিশাল জনসমাগমের জন্য নির্মিত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ইরানের অন্যতম বৃহৎ প্রার্থনাস্থল। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের উদ্দেশে বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

কোম ইরানের শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর। এখানে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। খামেনিসহ হাজার হাজার আলেম এ শহরে অধ্যয়ন ও শিক্ষাদান করেছেন।

ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৮ জুলাই নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

নজফে অবস্থিত ইমাম আলীর মাজার শিয়াদের অন্যতম পবিত্র স্থান। প্রতি বছর সেখানে লাখো তীর্থযাত্রী আসেন। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হজরত আলী ইবনে আবি তালিবের সমাধি রয়েছে।

কারবালায় অবস্থিত ইমাম হুসাইন ও তাঁর সৎভাই আব্বাসের মাজার শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন এবং আব্বাস শহীদ হন। এ ঘটনাটি শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।

এরপর মরদেহটি চূড়ান্ত দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদ ইরানের পবিত্রতম শহর। ইমাম রেজা শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে অষ্টম ইমাম হিসেবে পরিচিত।

শহরটি আলি খামেনির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের একটি বড় অংশ সেখানে কাটান। কোমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগে তিনি মাশহাদের ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে অধ্যয়ন করেছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা/ এএফপি/ প্রেস টিভি

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech