শিরোনাম :
এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণে মামলা, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়াম পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার : অভিযানে বিভিন্ন মালামাল জব্দ বিএনপি সরকার জাতির সাথে গাদ্দারি করছে : নাহিদ ইসলাম তেহরানে খামেনির শোক র‌্যালি, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগম- প্রতিশোধের দাবিতে উত্তাল দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে জুনে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ অক্টোবর লক্ষ্য ধরে প্রস্তুতি: সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল দেবে ইসি চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, বন্যা-ভূমিধসের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ

তেহরানে খামেনির শোক র‌্যালি, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগম- প্রতিশোধের দাবিতে উত্তাল

  • ১০:৫১ এএম, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কেন্দ্রীয় শেষযাত্রাকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে বিশাল শোক র‌্যালি। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের দাবি, আধুনিক ইরানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় জনসমাগমের শোকযাত্রা, যেখানে লাখো লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন।

সোমবার ৬ জুলাই (স্থানীয় সময়) সকাল ছয়টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর আগে দুই দিন ধরে সেখানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল।

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের প্রধান পর্ব হিসেবে আয়োজিত এ শোকযাত্রা শুরু হতেই তেহরানের রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ শোকাহত মানুষ।

এ শোকযাত্রা শুরু হয় তেহরানের পূর্বাঞ্চলের দামাভান্দ স্ট্রিট থেকে। সেখান থেকে ইমাম হোসেন স্কয়ার, ইনকিলাব স্কয়ার হয়ে পশ্চিমাঞ্চলের আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার কথা রয়েছে শবযাত্রার। বিপুল জনসমাগমের কারণে পুরো যাত্রা সম্পন্ন হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত আকাশপথের দৃশ্যে রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে মানুষের ঢল দেখা যায়। খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের কফিন বহনকারী গাড়িবহর ধীরে ধীরে শহর অতিক্রম করে।

গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে দমকল বিভাগের গাড়ি থেকে জনতার ওপর পানি ছিটাতে দেখা যায়। এর আগে দুই দিন ধরে তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও ওই দুই দিনে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।

শোকানুষ্ঠানে নিয়োজিত মেডিক্যাল জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল তাভাক্কোলি জানান, আড়াই হাজারের বেশি চিকিৎসাকর্মী প্রায় ১৬ হাজার চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন এবং শোকযাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের দাবিও ছিল প্রবল। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির প্রতিকৃতি এবং তার হত্যার প্রতিশোধ দাবি করে লেখা ব্যানার। শিয়া সংস্কৃতিতে প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত লাল পতাকাও বহন করতে দেখা যায় বহু মানুষকে।

শোকযাত্রার বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান ধ্বনিত হয়। কিছু বিক্ষোভকারী ইংরেজিতে লেখা ‘ট্রম্পকে খুন করো’ এবং ‘রক্তের বদলা’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। কয়েকটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের পতাকাও পোড়ানো হয়। তেহরানের একটি সড়কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত বিলবোর্ডে পাথর নিক্ষেপ করতেও দেখা যায় কিছু অংশগ্রহণকারীকে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শোকযাত্রাকে শুধু বিদায় অনুষ্ঠান নয়, বরং খামেনির আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার হিসেবে বর্ণনা করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, বিশ্ব এই ব্যাপক জনঅংশগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেছে এবং মানুষের অশ্রু প্রকৃত শোক ও বেদনার বহিঃপ্রকাশ।

শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরাকে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। বুধবার নাজাফ ও কারবালায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শোকযাত্রার দিনই ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, খামেনির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবি থেকে ইরান সরে আসবে না এবং এ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, খামেনিকে ইসরায়েল হত্যা করেছে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা করলে যে কোনো ইরানি নেতার বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে নিয়েও তার মন্তব্য তেহরানের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিনিধি ও মিত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নকে ‘কঠিন কিন্তু সম্ভব’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নকে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
শোকানুষ্ঠানে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদও অংশ নেন। বিপ্লবী গার্ডের সাবেক এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে খামেনির ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বর্তমান কর্মসূচি শেষে খামেনির মরদেহ প্রথমে ইরানের পবিত্র নগরী কোমে নেওয়া হবে। এরপর তা ইরাকের শিয়া ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। পরে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech