।।বিকে রিপোর্ট।।
সংবিধানে যদি গণভোটের প্রভিশন না থাকে, তবে ২০২৬ সালেও কোনো নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই; কারণ পুরনো সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে- বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার ১৩ জুলাই রাত ৯টার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর সংসদ ভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই বলে সরকারি দলের দেওয়া যুক্তির কড়া সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের ইচ্ছাতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং সেই আদেশের আলোকেই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টিকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় হওয়া সংসদ নির্বাচন মানা হবে অথচ গণভোট অস্বীকার করা হবে—এমন দ্বৈতনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘‘সরকার গঠনের জন্য পাওয়া ৫১ শতাংশ মানুষের ভোট যদি বৈধ হয়, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের বৃহত্তর রায়কে কেন অস্বীকার করা হবে?
দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফেরাতে অনেক আপত্তি সত্ত্বেও বিরোধী দল ৫১ শতাংশ ভোটের সরকার মেনে নিয়েছে। তাই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর রায় কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি, আপনারা দুটি করে ভোট দিয়েছেন। এখন যারা সংসদে আছেন, তারাও দুটি করে ভোট দিয়েছেন। সবাই ব্যালট দুটি হাতে নিয়েছেন। তখন তো কেউ বলেনি যে আমি একটা ব্যালট নেব, আরেকটা নেব না। এখন যারা সরকারি দলে আছেন তারাও দুটি ব্যালট নিয়েছেন। আমরাও নিয়েছি, সাধারণ জনগণও নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের নেতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা, তিনিও বলেছেন, ‘‘আপনারা, গণভোটে হ্যাঁ বলুন।’’ আমরাও জনগণকে বলেছি, ‘‘গণভোটে হ্যাঁ বলুন।’’
তারাও (সরকারি দল) ওয়াদা দিয়েছে, আমরা জয়ী হলে গণভোট বাস্তবায়ন করব। এই ‘‘হ্যাঁ’-এর দাবি অনুযায়ী, দুইটা শপথ নেওয়ার কথা। একটা সংসদ সদস্যের শপথ, আরেকটা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ।
আমরা বিরোধীদলের ৭৭ জন, সবাই আমরা দুটি শপথ নিয়েছি। কিন্তু সরকারি দল, তারা এ শপথ একটা নিয়েছেন, আরেক নেন নাই। তারা শুধু সংসদ সদস্যের শপথ নিয়েছেন। সে বিষয়গুলো আগেই আমরা আপনাদের সামনে পরিষ্কার করেছি।
জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান।
তিনি ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময়কার সরকার দাবি না মানায় তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারকেও কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের অস্বস্তি দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হবে আর বিরোধী দল বসে বসে সংসদে সমর্থন দেবে, আমরা সেই বিরোধী দল নই। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে অবশ্যই আমরা রুখে দাঁড়াব, আর আজকের ওয়াকআউট তারই অংশ।
এ সময় সেখানে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী দল শুরু থেকেই গণভোটের রায় মেনে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। ওই কমিটির প্রতি বিরোধী দলের কোনো নৈতিক সমর্থন না থাকায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।