শিরোনাম :
নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করলো আপিল বিভাগ হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলেছে ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ১ নারীসহ ৩ ভারতীয় আটক: বিএসএফের কাছে তুলে দিল বিজিবি বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে এনসিপি জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া: প্রতি টনে ১০ ডলার কমে ইউরিয়া সরবরাহের প্রস্তাব মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সহ দেশের ৯ অঞ্চলে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

  • ১২:৩২ পিএম, বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
হবিগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকার নির্ধারিত স্থানে চার বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অপরদিকে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল একই সময়ে ও একই স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা, অবস্থান কর্মসূচি, পিকেটিং, মাইকিং, স্লোগান এবং উচ্চ শব্দে প্রচারণাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে এমন সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের আদেশে আরও বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী। এ সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

এনসিপি হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউসে যাচ্ছিলেন। এ সময় থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা করেন।

তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আজ অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর শুনেছি। এর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেছি কোনো অশালীন বক্তব্যকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বারা বাংলাদেশের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি সমাজের সবচেয়ে খারাপ লোকদের পার্লামেন্টে নিয়ে গেছেন।

এর আগে দুপুরে জেলার আজমিরীগঞ্জে পদযাত্রায় সারজিস আলম বলেন, বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২১৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষেই ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যারা ক্ষমতা, চাঁদাবাজি ও টাকার দ্বন্দ্বে নিজেদের এত মানুষ হত্যা করতে পারে, তাদের কাছে এ দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। তার এমন বক্তব্যের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

পরে পদযাত্রা টিম হবিগঞ্জ জেলা শহরের সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার পথে কলাপাতা রেস্টুরেন্টের সামনে হামলার শিকার হয়। হামলার ঘটনার পর এনসিপি নেতারা পাশেই থাকা সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকশ পুলিশ সেই জায়গা ঘেরাও করে রাখে।

এ সময় ছাত্রদল কর্মীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়। জবাবে এনসিপির নেতাকর্মীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে যায়।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech