।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
প্রায় ৫ দিন হামলা বন্ধ রাখার পর আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সারপ্রাইজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এবং প্রায় ৫ দিন বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে তীব্র সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ইরানের একাধিক সারপ্রাইজ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরপরই এ হামলা চালানো হল।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) অনুযায়ী রাত ৮টার (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ভোর ৬টা) দিকে শুরু হয় অভিযান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) তথ্যমতে, এই নতুন দফার হামলা ইরানের সামরিক কমান্ড ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। সেন্টকম থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, আগের দিন (বুধবার) মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের সারপ্রাইজ হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে আজকের এই অভিযান শুরু হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মার্কিন বাহিনী ইরানে বেসামরিক এলাকায় বোমা হামলা চালিয়েছে; এতে কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবন আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং এক দম্পতি ও তাঁদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হন। এছাড়া কিশ দ্বীপ, বুশেহর এবং ইরানের তেল শিল্পের কেন্দ্রস্থল খুজেস্তান প্রদেশের চারটি স্থানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল বিষয়ক ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরের দিকে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বন্দর দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার জাহাজে আঘাত হানে একটি ইরানি ড্রোন। এতে বন্দরে আগুন ধরে যায়। সে সময় মার্কিন ও সৌদি সেনাবাহিনী যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরানপন্থি সামরিক গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান অভিযান পরিচালনা করছিল।
মিসরের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাংকার জাহাজে যে সময় ড্রোন হামলা ঘটে, তার কাছাকাছি সময় জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছিল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি।
এরআগে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ২৯ জুলাই ফক্স নিউজকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে এর মূল্য চোকাতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র শক্তভাবে পাল্টা আঘাত হানবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরানের ভূখণ্ড থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এটিকে মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, জর্ডানে আমাদের সেনাঘাঁটিতে ইরান হামলা করেছে। এখন আমাদের পালা। আমাদের জবাব খুব কঠিন হবে।
তবে তিনি এও বলেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।
প্রসংগত, গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুদ্ধবিরতি চলছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে; কিন্তু তারপর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের ২ ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা করে ইরান এবং সেই হামলার জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে সেন্টকম। টানা ১৩ দিন পাল্টাপাল্টি হামলার পর ২৫ জুলাই থেকে ‘বিরতি’ পালন করছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
এদিকে গতকাল বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা স্বীকার করেছে ইরানের প্রতিরক্ষাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব তেহরানকে দিয়েছিল ওমান। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবারের বিবৃতিতে সেই তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স