।।বিকে ডেস্ক।।
নাটোরের গুরুদাসপুরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সার পরিবহনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের এসব সার অবৈধভাবে পাশের সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় পাচার করা হচ্ছিল। তবে অভিযুক্ত সার ডিলার গিয়াস উদ্দিন প্রামাণিক পাচারের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি ভটভটিতে করে কয়েক বস্তা সার তাড়াশের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভিডিওতে স্থানীয় লোকজনের কথোপকথনে ৪০ বস্তা সার তাড়াশের সবুজপাড়ায় নেওয়ার কথা শোনা যায় এবং ভটভটি চালকও ডিলার গিয়াস উদ্দিনের নাম উল্লেখ করেন। তবে ডিলার গিয়াস উদ্দিনের দাবি, ভিডিওটি গত ১১ সেপ্টেম্বরের এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পাচারের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এই ডিলার জানান, মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রামের শহিদুল ও রাশিদুল নামের দুই কৃষক তাঁর কাছ থেকে সরকারি মেমো ও রেজিস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করে ন্যায্যমূল্যে মোট ১৬ বস্তা সার কিনেছিলেন। সার নিয়ে যাওয়ার পথে রাঙ্গা মোল্লা নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি গাড়ি আটকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে তিনি ১০ হাজার টাকা দাবি করলেও তা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রাঙ্গা মোল্লা সার পাচারের এই মিথ্যা ‘নাটক’ সাজিয়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে চাঁদাবাজির এই অভিযোগ অস্বীকার করে রাঙ্গা মোল্লা বলেন, ওই ডিলারের মাধ্যমেই তাড়াশ উপজেলায় সার পাচার হচ্ছিল এবং তিনি সেটি হাতেনাতে ধরে ফেলায় এখন তাঁর বিরুদ্ধে উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হচ্ছে। দুই কৃষকের কাছে সার বিক্রির যে কথা ডিলার বলছেন, তা একেবারেই সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগের বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি মৌসুমে সার নিয়ে অনিয়ম ঠেকাতে ইতিমধ্যেই সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে এবং উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলেও নিশ্চিত করেন এই কর্মকর্তা।