শিরোনাম :
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদির কাছে রায়ের কপি চেয়েছে বাংলা‌দেশ সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড: ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব বাবা, শোকে প্রাণ গেল ফুফুর হামে ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ১২০০ ছাড়ালো প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন মুন্সীগঞ্জে জাল টাকা ছাপানোর সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল’ স্লোগান দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইশরাক আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২২ জেলের কারাদণ্ড ইশরাকের পিস্তল উঁচিয়ে ধরার ঘটনা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ: জামায়াত

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড: ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব বাবা, শোকে প্রাণ গেল ফুফুর

  • ০৭:২৮ পিএম, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২৫) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। প্রবাসে থাকা ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা। এ খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারের দাবি, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও এ বিষয়ে আগে তাদের জানানো হয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রহিমা বেগম দম্পতির ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড় ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হিসেবে ২০২২ সালে ঋণ করে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এসএসসি পাস করার পর সংসারের হাল ধরতে সৌদি আরবে যান নজরুল। সেখানে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান তিনি। সৌদি আরবে যাওয়ার সাত-আট মাস পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি বাবাকে নিজের বন্দি থাকার কথা জানান। তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত কিছু জানাননি নজরুল।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন নজরুল। গত ১১ অক্টোবর পরিবারের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। ওই দিন বাবাকে ফোন করে তিনি সমস্যায় থাকার কথা জানান। এরপর গত ১৪ অক্টোবর গণমাধ্যমের খবর থেকে পরিবার জানতে পারে, সৌদি আরবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, “২০২২ সালে সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার সাত-আট মাস পর তার কোনো খোজ পাচ্ছিলাম না। পরে সে কারাগার থেকে ফোন করে জানায়, সে বন্দি। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তা জানায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “গত রোববার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সে জানিয়েছিল, সমস্যার মধ্যে আছে। এরপর বুধবার শুনলাম, তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আমার ছেলে হারালাম, বোনও মারা গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। ঋণের বোঝাও রয়ে গেছে। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।”

নজরুলের বাবা অভিযোগ করেন, ছেলে কারাগারে থাকার সময় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে নজরুলের কাছ থেকে কনস্যুলেটের কোনো প্রতিনিধির যোগাযোগের কথা জানতে পারেননি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নজরুলের মা রহিমা বেগম দাবি করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা সঠিক নয়। তার অভিযোগ, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি তারা। ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।

এদিকে নজরুলের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাতিজার মৃত্যুর খবরের শোক সইতে না পেরে সেদিনই তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। স্বজন ও এলাকাবাসী শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারের উত্থাপিত প্রশ্নের কোনো বিস্তারিত সরকারি বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা। সূত্র-যাযাদি।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech