।।বিকে রিপোর্ট।।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কুরবানির ঈদের আগেই দেশে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
বুধবার ২ এপ্রিল পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়ায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ জসিম উদ্দিনের বাড়ি গিয়ে বিএনপির পক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী ও অর্থ সহায়তা দেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এই কথা জানান।
আলতাফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া আগের থেকে অনেকটা সুস্থ। এখন তিনি হাঁটাচলা করতে পারেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাগুলোও শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগামী কোরবানি ঈদের আগেই তারা দেশে ফিরবেন।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ধোপার হাট এলাকায় শহীদ জসিম উদ্দিনের বাড়ি গিয়ে কবর জিয়ারত করেন বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন। পরবর্তীতে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে শহীদ জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মোসা. রুমা বেগম ও তার কন্যা লামিয়া এবং তার মা রাবেয়া বেগমের হাতে ঈদ উপহার সামগ্রীসহ নগদ অর্থ তুলে দেন।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো। পাশাপাশি তারেক রহমানও মিথ্যা মামলাগুলো থেকে মুক্ত হয়েছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে কুরবানির ঈদের আগেই তারা দেশে ফিরবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের শহীদ পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তির কন্যার খোঁজ নিতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, শুনেছি অনেকেই আপস মীমাংসার চেষ্টা করছেন, তাদের বলতে চাই এই ধর্ষণের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদ আহম্মেদ বাইজিদ পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নাজমুন নাহার নাজুসহ জেলা ও উপজেলার নেতারা।
প্রসংগত, গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হন জসিম উদ্দিন। ১০ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।