শিরোনাম :
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু -ডেঙ্গুতে ৬ জনের কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন: নিহত ২, প্রধানমন্ত্রীর শোক আগুনে পুড়ে বিকৃত ১০ মরদেহ: ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হবে পরিচয় মাদক অভিযানে পিস্তল হাতে ইশরাক, আইনের ব্যত্যয় হলে ‘ব্যবস্থা নেবে পুলিশ’ বাগেরহাটে ভাড়া বাসা থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি ‘সামাজিক প্রতিরোধ’ করতে সতর্কতার জন্য অস্ত্র দেখিয়েছি: ইশরাক কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ১৯

১৪ ঘণ্টা পর ভেসে উঠল চট্টগ্রামে খালে তলিয়ে যাওয়া শিশুর মরদেহ

  • ১২:৫২ পিএম, শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় কাপাসগোলা হিজড়া খালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নালায় পড়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হল।

শনিবার ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে চাক্তাই খাল এলাকায় শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠে। নগরের আসাদগঞ্জের চামড়া গুদাম মোড়ের পার্শ্ববর্তী চাক্তাই খালে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

তল্লাশির দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর ডুবুরি টিমের প্রধান লেফটেন্যান্ট বেলাল হোছাইন বলেন, নিখোঁজ শিশুটিকে তার পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, শিশুর নাম চেহরিস। তার বাবার মো. শহীদ এবং মায়ের নাম সালমা বেগম।  

এর আগে, শুক্রবার ১৮ এপ্রিল)রাত ৮টার দিকে নগরীর চকবাজার থানার কাপাসগোলার নবাব হোটেলের পাশের হিজরা খালের নালায় মা ও দাদিসহ অটোরিকশা নালায় পড়ে যায়। এই ঘটনায় মা ও দাদিকে উদ্ধার করা গেলেও তলিয়ে যায় ৬ মাসের শিশু চেহরিস। এর পরপরই শিশুটি পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর রিকশাচালক পালিয়ে যায়। দ্রুত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী। রাতভর অভিযানে শিশুটির হদিস মেলেনি।

শিশুটির মামা মারূফ জানান, আসাদগঞ্জ থেকে চেহরিসকে নিয়ে তার মা ও দাদি তার (মারূফ) বাসায় বেড়াতে আসছিল। বাড়ির কাছে এসে রাস্তায় পানি থাকায় রিকশা নেয় তারা। কিন্তু নালার পাশে থাকা বাঁশের বেষ্টনী খুলে ফেলার কারণে তারা রিকশা নিয়ে পড়ে যায়। পরে চেহরিসের মা সালমা ও দাদি আয়েশাকে উদ্ধার করা গেলেও চেহরিস নিখোঁজ হয়।

শিশুটি যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছে সেখান থেকে উদ্ধারের স্থানটি অন্তত দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হবে।

চট্টগ্রামে খাল ও নালায় তলিয়ে প্রাণহানির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট মুরাদপুর মোড়ে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ বৃষ্টির মধ্যে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন এবং দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানেও তার মরদেহ পাওয়া যায়নি। একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ এলাকায় হাঁটার সময় নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া মারা যান।

২০২২ সালে ষোলশহর এলাকায় শিশু কামাল নালায় পড়ে নিখোঁজ হয় এবং তিন দিন পর মুরাদপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট আগ্রাবাদ রঙ্গীপাড়া এলাকায় ১৮ মাসের শিশু ইয়াছিন আরাফাত নালায় পড়ে নিখোঁজ হয় এবং প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

২০২৪ সালের জুনে গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় ৭ বছরের শিশু সাইদুল ইসলাম নালায় পড়ে নিখোঁজ হয় এবং পরদিন নাসির খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম শহরে খোলা নালা ও ড্রেনের কারণে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই কিছুদিন বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয় এবং কিছুদিন পর থেমে যায়। নালাগুলোর মুখ খোলা পড়ে থাকে। বৃষ্টি হলেই নালা ও ড্রেনগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং পথচারীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়।

সিটি কর্পোরেশনের বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech