।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এর মধ্য দিয়ে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫২ হাজার ৪১৮ জনে পৌঁছেছে।
শুক্রবার ২ মে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ১ মে দিনভর ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৩১ জন প্রাণ হারান। শুক্রবার ভোরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার সংবাদদাতা গাজার ওপর ইসরায়েলের ৬০ দিনের অবরোধকে বেসামরিক জনগণের ওপর ‘ইচ্ছাকৃত শ্বাসরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য ইসরায়েলি বন্দিদের ফেরত আনা নয়, বরং ‘শত্রুদের ওপর বিজয়’ লাভ করা।
পৃথকভাবে, আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৪১৮ জনে। একইসঙ্গে, গত ২৪ ঘণ্টায় আহত ৭৭ জনসহ মোট আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৯১ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় বহু মরদেহ পড়ে থাকলেও উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না।
দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে সামরিক অভিযান চলার পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপর প্রায় দুই মাস শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও, সেনা প্রত্যাহার নিয়ে হামাসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ইসরায়েল চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধ বিরতি ভঙ্গ করে আবারও গাজায় বিমান হামলা শুরু করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ থেকে পুনরায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ২৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ছয় হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে, গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া, অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি ইসরায়েল।