গাজা পুনর্গঠনের জন্য তার পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের ফেরার কোনো অধিকার থাকবে না- বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার ১০ ফেব্রুয়ারী (স্থানীয় সময়) ফক্স নিউজ চ্যানেলের ব্রেট বাইয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের সূত্রে ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি এটি নিজের পরিকল্পনা হিসেবে দেখছি’, যেখানে গাজার বাইরে ফিলিস্তিনিদের জন্য ছয়টি নতুন আবাসন স্থাপন করা হতে পারে।
এই পরিকল্পনার আওতায় ফিলিস্তিনিরা গাজায় ফিরে যেতে পারবে কি না’ জিজ্ঞেস করলে ট্রাম্প বলেন, না, তারা ফিরে যেতে পারবে না, কারণ আমরা তাদের জন্য আরও উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করব। আমি তাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করতে চাই, আমি গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দাদের জন্য ‘সুন্দর কমিউনিটি’ তৈরি করে দেব। যেগুলো হবে নিরাপদ। তবে তারা যেখানে এখন আছে সেখান থেকে এগুলো একটু দূরে হবে। বর্তমানে গাজা ঝুঁকিতে ভরা। কারণ যদি তারা এখন ফিরে যায়, তাহলে বছরের পর বছর অপেক্ষা করলেও সেটি বসবাসের উপযোগী হবে না।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে আমি এটি কিনে নেব। এখানে ভবিষ্যত রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্টের কথা ভাবুন। এটি হবে একটি সুন্দর ভূখণ্ড। বড় অর্থ খরচ হবে না।
গত মঙ্গলবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ফিলিস্তিনিরা বলছে, গাজা নট ফর সেল। এটা আমাদের মাতৃভূমি। এটা কখনোই বিক্রি হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে যান দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা দখল করবেন এবং সেখানে নতুন বসতি গড়ে তুলবেন। অপরদিকে ফিলিস্তিনিদের মিসর অথবা জর্ডানে পাঠানো হবে। তার এমন কথায় সবাই বেশ অবাক হন। এছাড়া মিসর ও জর্ডান তার প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
প্রসংগত, গত ১৫ মাস গাজায় নির্বিচার বর্বরতা চালিয়েছে ইসরায়েল। ক্রমাগত বিমান হামলায় প্রায় ৪৮ হাজার নিরিহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নারী ও শিশু। এবং হামলায় গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে দখলদাররা।
সূত্র: এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান