শিরোনাম :
চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী অদ্ভুত উল্টোবিচার: ভূক্তভোগীকে টিসি দিল স্কুল! অভিযুক্ত পেল মাফ! জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন এনসিপি নেতারা সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর, কাগুজে চুক্তি সৌদিকে নিরাপত্তা দেবে না- ইরান হরমুজ সংকট: বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ঢাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম, নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যে ভারতের সমর্থন নেই: জয়সওয়াল থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

ফেব্রুয়ারিতে কমেছে মূল্যস্ফীতি : বিগত ২২ মাসে সর্বনিম্ন

  • ১০:৪৪ এএম, শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
অবশেষে দীর্ঘসময় চলতে থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী ধারায় ফিরেছে । সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে শহর ও গ্রামীণ পর্যায়ে খাদ্য খাতে ‘খরচ কমার’ তথ্য দিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে দশমিক ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের জীবনধারণের ব্যয় কিছুটা কমেছে। বলা হয়েছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা গত ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বৃহস্পতিবার ৬ মার্চ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেয়া ফেব্রুয়ারি মাসের ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্যে বিষয়টি জানানো হয়।

সবশেষ ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। এরপর থেকেই চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি আন্দোলনের মাস গত জুলাইয়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া আগের ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৬৭ শতাংশ।

বিবিএস জানায়, খাদ্য খাতে ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.২৪ শতাংশ। যা জানুয়ারি মাসে ছিল ১০.৭২ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্য বহির্ভূত খাতে ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৩৮ শতাংশ। যা জানুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩২ শতাংশ।

বিবিএসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শীতের শাকসবজির দাম বেশ কম। চালের বাজারেও বেশি পরিবর্তন নেই। এসব কারণে ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। মূলত খাদ্য পণ্যের দাম কমায় গড় মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি হার ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত জানুয়ারিতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এদিকে, দীর্ঘসময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমায় মানুষের ব্যয় কমেছে। এতে মূল্যস্ফীতির কারণে ভোগান্তিতে থাকা মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরার কথা। কিন্তু একই সময়ে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় আপাতত জনজীবনে সেই স্বস্তি ফিরছে না।

কারণ একই সময়ে মানুষের আয়ও কমে গেছে। অর্থাৎ মানুষের ব্যয় কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে আয়ও।

ফলে মূল্যস্ফীতি কমলেও স্বস্তি ফিরছে না জনজীবনে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

এদিকে, ১০ মাস পর খাদ্য মূল্যস্ফীতি নেমেছে ১০ শতাংশের নিচে। বিবিএসের সর্বশেষ হিসাবে, গত ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমেছে প্রায় দেড় শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে মজুরি প্রবৃদ্ধি কমার প্রবণতা সীমিত আয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বলে মনে করেন তারা। তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী এই ধারা অব্যাহত রাখতে আরও কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মজুরি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। না হলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনধারণ অসহনীয় হয়ে যাবে।

তারা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে শীতের মৌসুম হওয়ায় সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সুলভ মূল্যে পাওয়া গেছে। যদিও মূল্যস্ফীতির মূল চ্যালেঞ্জ আসবে এপ্রিল থেকে। বাংলাদেশে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শঙ্কা থাকে। ফলে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে। এছাড়া রাজনিতক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির প্রভাব, ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী অস্থিরতা সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতির মান নির্ভর করে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech