শিরোনাম :
৪৮০০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬: শুভেন্দু ইসরায়েলে হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মূখে পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১০ জনকে রাতের আঁধারে সরিয়ে নিল বিএসএফ নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন : পুশইন ইস্যুতে কঠোর বার্তা দেবে বিজিবি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবি পরিচালক হলেন তামিম ইকবাল তোফায়েল ও মোশাররফসহ মন্ত্রী-এমপি ও জাতীয় ব্যাক্তিত্বদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহিত বৈরুতে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন : ইরানের কঠোর জবাব, পাল্টা-পাল্টি মিসাইল হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য আবাসন ঋণে নতুন উদ্যোগ, সুবিধা পাবেন ফ্ল্যাট ক্রেতারা শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচারে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রামিসা হত্যার বিচার শুরু: আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে ন্যায়বিচার চাইলেন রামিসার বাবা

  • ১২:২৯ পিএম, মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আজ প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মঙ্গলবার ২ জুন সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রামিসা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

আজ আদালতে রামিসার বাবার পাশাপাশি মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন—সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তাদের এজলাসে তোলা হবে।

গতকাল সোমবার ১ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত। মামলায় সাক্ষ্য দিতে ১৭ সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে ন্যায়বিচার চাইলেন বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে তিনি বলেছেন, “আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।

আব্দুল হান্নান বলেন, আমি আদালতের কাছে প্রত্যাশা করি, আমার মাসুম বাচ্চার নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বর্বরোচিত ধর্ষণের ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার চাই। সেই বিচারের দ্রুত কার্যকারিতা চাই। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়। কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন ভেঙে না যায়।

কোনো বাবা-মাকে যেন আদালতের বারান্দায় এসে না দাঁড়াতে হয়। আমি সরকার, বিরোধীদলের কাছে অনুরোধ করব, আমরা সংসদের এমন একটা আইন পাস করুন- যাতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার এক মাসের মধ্যে রায় হতে হবে। সেটা কার্যকর হবে। এটাই প্রত্যাশা করি, দেশবাসীও এটা প্রত্যাশা করে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সেদিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশের ভাষ্য।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলের সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

সেদিনই ঢাকার মহানগর হাকিম আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন ওইদিনই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech