।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এনেছে পেন্টাগন। এতদিন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আড়াল করার শতচেষ্টা করা হলেও, প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের সদ্য প্রকাশিত এক গোপন প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও সামরিক বিপর্যয়ের আসল রূপটি উন্মোচিত হয়েছে।
গত সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চার মাসের যুদ্ধের অফিশিয়াল হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে ৩০টি অত্যন্ত আধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনসহ কয়েক ডজন সামরিক বিমান হারিয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত শত শত ভবন ও স্থাপনা ইরানি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক এই চার মাসের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে কেবল ব্যবহৃত গোলাবারুদের পেছনেই খরচ হয়েছে ২২ বিলিয়ন ডলার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারকে অসীম ও উৎপাদনকে ঐতিহাসিক উচ্চতায় বলে দাবি করলেও প্রতিবেদনটিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, তীব্র সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে মারাত্মক গোলাবারুদ সংকটে ভুগছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
ইরানের লাগাতার রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর ওপর বয়ে গেছে ধ্বংসযজ্ঞ। প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যমতে, চার মাসের এই যুদ্ধে অন্তত ১১ জন মার্কিন সামরিক কর্মী সরাসরি যুদ্ধে নিহত হয়েছেন এবং ৭ জন অযুদ্ধজনিত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি ৪১৭ জন মার্কিন সেনা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। কুয়েতের শুআইবা বন্দর, সৌদি আরব, জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটি এবং ইরাকের এরবিল ঘাঁটিতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ইরাকে মার্কিন রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার কেসি-১৩৫ এবং আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০এস হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সেনাসদস্যদের মৃত্যু হয়।
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। কুয়েতের আকাশে বন্ধুভাবাপন্ন বাহিনীর ভুল গুলিতে তিনটি এবং ইরানের ভেতরে সরাসরি লড়াইয়ে একটিসহ মোট চারটি এফ-১৫ই ফাইটার জেট ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া পেন্টাগনের গর্বের প্রতীক ১টি এফ-৩৫এ স্টিলথ ফাইটার জেট, ১টি এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, ৭টি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং ১টি ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারক্রাফট পেন্টাগনের ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উচ্চ প্রযুক্তির ২৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বেশ কিছু আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে নজরদারি ও নিখুঁত আক্রমণের কাজে ব্যবহৃত ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে।
কেবল সামরিক বিমানই নয়, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে থাকা শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও ইরানি আক্রমণের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ইউএই-তে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট ভবনগুলোর প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিসাধন হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ইরাকেই মার্কিন মিশন ৬০০টিরও বেশি আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। সূত-আ স।