।।বিকে স্পোর্টস।।
শেষ পর্যন্ত দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠান্ডা মাথার পেনাল্টি থেকেই এল কাঙ্ক্ষিত গোল। আর সেই ১ গোলেই প্যারাগুয়েকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ফ্রান্স।
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই একচেটিয়া আধিপত্য ছিল দিদিয়ে দেশমের দলের। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ, কর্নার—সবই ছিল ফরাসিদের দখলে। কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে যেন সব পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। পাঁচ ডিফেন্ডারের দেয়াল তুলে প্যারাগুয়ে এমনভাবে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিল যে প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই গোলমুখে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন ঘটনা ঘটল মাত্র তৃতীয়বার।
বিরতির পর চাপ আরও বাড়ায় ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণ। ৫৫ মিনিটে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক অরলান্দো গিল। কিছুক্ষণ পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপ্পের দৌড়ও শেষ মুহূর্তে থামিয়ে দেন হুয়ান হোসে কাসেরেস।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দেশমের একটি বদলিতে। ৬১ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় নামেন দেজিরে দুয়ে। চার মিনিটের মধ্যেই বক্সের ভেতর অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে গুস্তাভো গোমেসকে ফাউল করাতে বাধ্য করেন তিনি। প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও ভিএআরের পর পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
৭০ মিনিটে স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি এমবাপ্পে। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে নিচের ডান কোণে বল জড়িয়ে উল্লাসে মাতেন ফরাসি অধিনায়ক। সেই গোলেই বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৯। নকআউট পর্বে এনিয়ে ছিল তাঁর ১১তম গোল, এমবাপ্পের অভিষেকের পর যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে এটি তাঁর ১৯তম গোল। ২০ গোল নিয়ে সবার ওপরে লিওনেল মেসি।
গোল হজমের পর আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ছিল এলোমেলো। যোগ করা সময়ে মাউরিসিওর শট সহজেই তালুবন্দি করেন মাইক ম্যানিয়াঁ। ৮৯ মিনিটে ও যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও এমবাপ্পে গোলরক্ষক গিলকে আরেকবার পরাস্ত করতে পারেননি।
তবে তাতে কোনো আফসোস নেই ফরাসিদের। এমবাপ্পের এক গোলই যথেষ্ট ছিল। কঠিন লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের প্রতিরোধ ভেঙে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা আরেকটি বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে মরক্কো।