|।।বিকে ডেস্ক।।
মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও কবরস্থান। ইতোমধ্যে গ্রামের একমাত্র কবরস্থানের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে দুই শতাধিক কবর। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। শেষ সম্বলটুকুও হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
জানা যায়, মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের যমুনা নদীর শাখা থেকে উৎপত্তি হয়ে ধলেশ্বরী নদী জিয়নপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালীগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ নদীতে ভাঙন অব্যাহত থাকায় জিয়নপুর ইউনিয়নের লাউতারা গ্রামের মানুষের বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান হুমকির মুখে পড়েছে। গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের একমাত্র কবরস্থানটি রয়েছে ৪০ শতাংশ জমির ওপর। এরই মধ্যে নদীভাঙনে কবরস্থানের প্রায় অর্ধেক জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কবরও নদীতে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট জায়গাটুকুতেও ভাঙন অব্যাহত থাকায় সেটিও বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কবলে পড়ে লাউতারা গ্রামের অনেক পরিবার দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত বসতভিটা হারিয়েছেন। ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। একইসঙ্গে কবরস্থানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মৃত স্বজনদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে গিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্বজনদের।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নদীভাঙন রোধ করা না গেলে কবরস্থানের অবশিষ্ট অংশটুকুও বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে গ্রামের মৃতদের দাফনের জন্য নতুন জায়গা পাওয়া নিয়েও সংকট তৈরি হবে। পাশাপাশি লাউতারা এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়টিও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হলে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। তাই কবরস্থান, বসতভিটা ও বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নদীভাঙনে শুধু কবরস্থান নয়, বিলীন হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প, বসতভিটা ও বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
নদীভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, বর্ষা মৌসুমের শেষ সময়ে নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতি খুব বেশি বিপজ্জনক নয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও সার্ভে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শুষ্ক মৌসুমে ভাঙনকবলিত এলাকা ও প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা হবে।