।।বিকে ডেস্ক।।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
সোমবার ২ নভেম্বর সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
এই হামলাটিকে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযানের অংশ বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এ ধরনের সীমিত হামলা এর আগেও গোপনে পরিচালিত হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়ার ঠিক আগের দিনে চালানো এই সামরিক পদক্ষেপটি মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ইরান পরিস্থিতির এখনও সমাধান হয়নি এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা জিইয়ে রয়েছে।
এমন এক সময়ে এই আক্রমণটি চালানো হলো, যার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কূটনীতির পথ খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতেই পারে।
সোমবার একই ধরনের সুর শোনা গেছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গলায়ও। সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বা সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি। আপনারা এটাকে যুদ্ধ বলবেন কি না আমি জানি না, কারণ আমরা কয়েক মাস ধরে কোনো যুদ্ধ করছি না।’
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র উল্লেখ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমেরিকান বাহিনী ইরানি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট আকারের হামলা অব্যাহত রেখেছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা এই অভিযানগুলোকে নিছক ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তাঁদের দাবি, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে যেন ইরান কোনো হুমকি তৈরি করতে না পারে বা হামলার সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে আজ ভোরের দিকে কেশম দ্বীপ এবং উপকূলীয় শহর বান্দর লেঙ্গেহসহ দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।