Breaking News:


শিরোনাম :

সংবিধানের মূলনীতি নিয়ে ডান-বাম বিরোধ চরমে : প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি

  • ১১:২২ এএম, সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও সম্মতি জানিয়েছে সব রাজনৈতিক দল।

তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অর্থাৎ সংবিধানের মূলনীতি কী হবে, সেটি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে বামপন্থি এবং ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তুমুল বিরোধ দেখা দিয়েছে।

রবিবার ২৭ জুলাই রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ এসব তথ্য জানান।

আলী রীয়াজ বলেন, আমরা একমত হয়েছি যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সনদে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর সীমিত করার প্রস্তাব আমাদের পক্ষ থেকেই এসেছে। তবে আমরা আগেই বলেছি, সংবিধান ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কমিটি না থাকলে আমরা এটি মানব না। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান অবশ্যই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের এই শর্ত মানলে ১০ বছরের বিষয়টি এখনই ঘোষণা দিতে পারেন। এটি মূলত আমাদের পক্ষ থেকেই প্রস্তাবিত।

দিনের আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়—বাংলাদেশে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে পুলিশের পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধবতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

আলী রীয়াজ জানান, স্বাধীন পুলিশ কমিশনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। এখন কমিশনের গঠন কাঠামো ও আইনগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এরপর রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ডানপন্থি এবং বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

সংবিধানের মূলনীতির ব্যাপারে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত তিনটি মূলনীতি—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—এগুলোর সঙ্গে গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে মূলনীতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি ১৯৭২ সালের সংবিধানে থাকা অথবা পঞ্চম সংশোধনীতে যোগ হওয়া কোনো মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা আগামী সংসদের এখতিয়ারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী) সহ একাধিক বামপন্থি দলের মতে, বাংলাদেশ এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে। তার ভিত্তিতেই ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই মূলনীতি একেবারেই পরিবর্তন করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা।

তারা বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতির ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। কমিশন যদি জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তাহলে তারা আলোচনা থেকে সরে যাবেন।

অপরদিকে বিএনপি, জামায়াত ও এবি পার্টি কমিশনের প্রস্তাবে একমত পোষণ করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’ বিষয়টি সংযোজনের প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে ডানপন্থি দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

তবে এনসিপি এ ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেছে। তাদের মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানের কোনো মূলনীতিই রাখা উচিত নয়, বরং নতুনভাবে প্রস্তাবিত বিষয়গুলোকেই মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

বৈঠকের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির আগেই এই বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক হয়। এ সময় কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ উত্তেজিত হয়ে কয়েকজন বক্তাকে থামিয়ে দেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech