।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশে বর্তমানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যত অনুপস্থিত। সত্য প্রকাশের পরিবেশ না থাকায় গণমাধ্যম প্রকৃত বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারছে না- বলেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের।
শনিবার ৪ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটে জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জি এম কাদের বলেন, দেশে আইনের শাসনের ঘাটতির কারণেই গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। কোনো গণমাধ্যম প্রকৃত সত্য প্রকাশের চেষ্টা করলেই একদল তরুণ মব সৃষ্টি করে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তা দমন করার চেষ্টা করছে। ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অথচ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে দেশের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে উঠে আসা সম্ভব নয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এবারের নির্বাচন অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার আরও বেশি অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তার কাছে এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জি এম কাদের অভিযোগ করেন, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং জাতীয় পার্টিকেও অনানুষ্ঠানিকভাবে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে ফেলে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, আগের নির্বাচনে রাতে ভোট হওয়ার অভিযোগ থাকলেও এবারের নির্বাচনে আগের দিন, ভোটের দিন এবং পরের দিনও ভোট হয়েছে।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতির অভিযোগ তুলে জি এম কাদের বলেন, বর্তমানে এমন অনেক ব্যক্তি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছেন, যাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বা ভূমিকা নেই। ফলে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে তরুণদের একটি অংশ মতের অমিল হলেই অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞারও তাদের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তবে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে বা তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, জনগণের মধ্যে এখনো পুলিশ বাহিনীর প্রতি পূর্ণ আস্থা ফিরে আসেনি। ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর মনে হচ্ছে, সরকার পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না, সে বিষয়েও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।