শিরোনাম :
অবশেষে বিয়ে করলেন রোনালদো ও জর্জিনা: হলেন আর্জেন্টিনার ‘জামাই’ সাভারে সিটিটিস ‘র রাতভর অভিয়ান: জেএমবি সদস্য আটক, ধরা পড়েনি বোমারু মামুন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী মহাখালীতে আ.লীগের মিছিলের চেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০ জামানত ছাড়াই উদ্যোক্তা তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিতে বিশেষ তহবিল আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে, ৭ বিভাগের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : প্রধানমন্ত্রী দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল বন্ধ

সাভারে সিটিটিস ‘র রাতভর অভিয়ান: জেএমবি সদস্য আটক, ধরা পড়েনি বোমারু মামুন

  • ১১:৩৫ এএম, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
সাভারে অভিযান চালানো বাড়িটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আস্তানা ছিল বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

মঙ্গলবার ১১ আগস্ট রাতভর পরিচালিত অভিযানে সংগঠনের সক্রিয় সদস্য আরিফকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাড়িটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম।এসব বিস্ফোরক দিয়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা চলছিল হলেও জানিয়েছে সিটিটিসি।
সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়া ও রাজধানীর মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে মঙ্গলবারের অভিযানে সাভারের আস্তানা থেকে আরিফকে আটক করা হলেও হোতা মামুন নাজমুল হাসান ওরফে বোমারু মামুনকে ধরা যায়নি এখনো। জানা গেছে, আরিফ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকার হানিফের ছেলে।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, ড্রাইভিং ও শিক্ষকতার ভুয়া পরিচয় দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে গত ২ আগস্ট ওই বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন আরিফ।

আরিফের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৬টি শক্তিশালী পাইপ বোমা ও কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৯টি পাইপ বোমা, গান পাউডার, সায়ানাইড ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে মোট ১৫টি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় ও আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

৪ ঘন্টা বাড়িতে ঘিরে রাখার পর মঙ্গলবার রাতে শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িতে অভিযান চালায় সিটিটিসি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, পুরো এলাকা ঘিরে রেখে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফলভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করেছে। আটক আরিফের কাছ থেকে জেএমবির বিপুল পরিমাণ দাওয়াতি ও সাংগঠনিক লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সবকটি বোমা ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা বলেন, ‘গত ২ আগস্ট বাসাটি ভাড়া দেওয়া হয়। বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় বলা হয়েছিলো স্বামী-স্ত্রী থাকবে, পাশের একটি স্কুলে বাচ্চাদের পড়াবে। পরিবার ভেবে আমরা ভাড়া দিয়েছিলাম। ভেতরে ভেতরে সে যে এতটা ভয়ংকর পরিকল্পনা করছিলো, তা আমরা বুঝতে পারিনি।’

এদিকে অভিযানের পর থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে দেখা যায় প্রতিবেশীদের কৌতুহল।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধার করে সিটিটিসি। এই দুটি ঘটনার যোগ সূত্র, বোমার উৎস, নেপথ্য ব্যক্তিদের সনাক্তের পাশাপাশি এর পেছনে কোনো উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। সেইসঙ্গে এসব ঘটনার ছায়া অনুসন্ধানে নামে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা এনএসআই।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা আলোচিত জঙ্গি সদস্যদের অনেকেই মুক্তি পায়।

তিনি জানান, অনেকেই জেল থেকে পালিয়ে সক্রিয় হয়ে ছোট ছোট সেল গঠন করেন। নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়নের উৎস তৈরি এবং বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেন।

গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথে শক্তিশালী ছাতাবোমাটির তদন্ত করতে গিয়ে আলোচিত নাম নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে সনাক্ত করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার সাত নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো সেই মামুনকে। সে সময় মামুন নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথের ‘হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল’-এ আস্তানা গড়েছিল নব্য জেএমবির সদস্যরা।

সিটিটিসি হোটেলটিতে ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক মূল হামলাকারী নিহত হন। ২০১৯ সালে ১১ আগস্ট ওই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অভিযোগপত্রে পুলিশের তদন্তে ও মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও ছিলো বোমারু মামুনের নাম।

তিনি জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ দেওয়া ও নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা ইত্যাদি দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মামুন কারাগার থেকে বের হয়ে কেরানীগঞ্জ ও সাভারে বসবাস করছিলেন। তার সঙ্গে যোগ দেন শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফসহ অন্তত ১৫ জন। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অর্থ ও জনবল সংগ্রহ করার কাজ পুরোদমে শুরু করেন বলেও জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।

এ অভিযানের বিষয় নিয়ে আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে। সূত্র- আমাদের সময়।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech