।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ওই অঞ্চলের গোয়েন্দা প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
সোমবার ১৭ আগস্ট ভোরে দুটি ইরানি ড্রোন হামলা চালায়, যার একটি ড্রোন তার দপ্তরে আরেকটি ড্রোন কুর্দিস্তানের গোয়েন্দা প্রধানের বাড়িতে আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কুর্দিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরান সীমান্ত পেরিয়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা সংস্থা পারাস্তিন এজেন্সির পরিচালকের বাসভবন লক্ষ্য করে হাদিদ-১১০ মডেলের দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর কুর্দিস্তানকে অসংখ্যবার টার্গেট করেছে ইরান। তাদের শঙ্কা ছিল, কুর্দিস্তান থেকে কুর্দি যোদ্ধারা মার্কিন ও ইসরায়েলিদের হয়ে ইরানে স্থল হামলা চালাতে পারে।
ইরান সবসময় অভিযোগ করে থাকে, কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করে।
কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, কুর্দিস্তান কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের তদন্ত অনুযায়ী, আজ ভোরের দিকে আমার ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি এই হামলা সম্পর্কে বলেন, এটি একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি।
কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলের আকাশে বারবার বহু ড্রোন লক্ষ্যচ্যুত ও ধ্বংস করা হয়েছে, অন্যদিকে কিছু ড্রোন বিদ্রোহী ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে আঘাত হেনেছে।
সংবাদমাধ্যম আলবাওবা জানিয়েছে, কুর্দিস্তানে ইরান ও তাদের মিত্ররা কয়েক হাজার বার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ইরবিলকে টার্গেট করে তারা। এরমধ্যে গত ১৭ জুলাইয়ে চালানো এক হামলায় ইরবিলে ৯ জন নিহত হন।
তেহরানের অভিযোগ, এসব নির্বাসিত কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠী মূলত পাশ্চাত্য ও ইসরায়েলি স্বার্থে কাজ করছে। ফলে এ বছরের এপ্রিলে ঘোষিত আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি (যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়) চলাকালেও তাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রাখে ইরান।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কুর্দিস্তানে অবস্থিত তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ও ক্যাম্প খালি করে দিয়েছে। এর আগে গত ১৭ জুলাই অঞ্চলের পূর্বাঞ্চলীয় সুলাইমানিয়া শহরের কাছে ড্রোন ও রকেট হামলায় নয়জন নিহত হন।
এদিকে কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বলেছে, এই হামলা ইরাক ও ইরাকের কুর্দিস্থানের ভৌগলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সূত্র: গালফ নিউজ