।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি বিমান আকাশ থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ২৫ টন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে।
রবিবার ২৭ জুলাই এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডান সেনাবাহিনী।
আম্মান থেকে এএফপি জানায় জর্ডান সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী রবিবার ২৭ জুলাই গাজা উপত্যকার ওপর তিনটি এয়ার ড্রপ (আকাশপথে ত্রাণ ফেলা) কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ মধ্যে একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। তিনটি বিমানে মোট ২৫ টন ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য নিরাপদ স্থলপথ চালু করার ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘ জানিয়েছে যে তারা এই ‘মানবিক বিরতির’ সুযোগে যত বেশি সম্ভব অনাহারক্লিষ্ট মানুষকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবে।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, গাজা উপত্যকায় ২১ লাখ মানুষকে প্রায় তিন মাস খাওয়ানোর মতো খাদ্য তারা সেখানে পাঠিয়েছে বা পথে রয়েছে।
জাতিসংঘের জরুরি সহায়তা সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বলেন, ‘আমরা এই মানবিক বিরতির ঘোষণা স্বাগত জানাই। আমাদের মাঠপর্যায়ের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, যারা এই সময়ে যত বেশি ক্ষুধার্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা করবে।’
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, এই বিরতি ও করিডোরের মাধ্যমে জরুরি খাদ্য নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গাজার অভ্যন্তরে অধিকাংশ মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তাই খাওয়ার একমাত্র উপায়।’
তারা জানায়, গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ দিনের পর দিন না খেয়ে আছে এবং প্রায় ৪.৭ লাখ মানুষ ‘দুর্ভিক্ষ-সদৃশ পরিস্থিতিতে’ রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই প্রাণহানির কারণ হচ্ছে।
ডব্লিউএফপি আরও জানায়, গাজায় পুরো জনগণের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে ৬২,০০০ টনের বেশি খাদ্য প্রয়োজন।
রোববারের ‘বিরতি’র পাশাপাশি ইসরায়েল আরও বেশি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি, দ্রুত ছাড়পত্র এবং ‘সহায়তাবাহী কাফেলার কাছাকাছি কোনো অস্ত্রধারী বাহিনী বা গুলির ঘটনা না ঘটার আশ্বাস’ দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএফপি বলেছে, ‘আমরা আশা করি, এসব পদক্ষেপ একত্রে কাজ করে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর গতি বাড়াবে এবং আর কোনো বিলম্ব ছাড়াই ক্ষুধার্ত মানুষজন সাহায্য পাবে।’
সূত্র : রয়টার্স