।।বিকে রিপোর্ট।।
বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাদের দ্রুত বিদায় নেওয়া দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ অবনতি স্মরণকালে কেউ দেখেনি- বলেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
বুধবার ১৯ মার্চ ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিলে হামলার পর গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য এর আগে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এক বার্তায় জাতীয় পার্টি দাবি করছে, ‘এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা’।
হামলার বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান, বিকেলে কচুক্ষেত সংলগ্ন দ্যা বুফে প্যালেসে এই ইফতার মাহফিলে সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০/২৫ জন ইফতার মাহফিলের মধ্যে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
বিকেল ৫টার পর অনুষ্ঠান শুরু হলে কিছুক্ষণ পরেই সভাস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। এরপর হঠাৎ কয়েকজন লাঠি, কাচের প্লেট ছুড়ে মারতে দেখা যায়। এতে কয়েকজন রক্তাক্ত হন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় জাতীয় পার্টি নেতাকর্মী ও স্থানীয় রোজাদারদের প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা হল থেকে বের হয়ে যায়।
এর প্রায় ১০ মিনিট পরে সন্ত্রাসী গ্রুপটি শতাধিক সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্রিকেট ব্যাট, হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে জাতীয় পার্টি নেতাকর্মী, স্থানীয় রোজাদার, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।
ইফতারের আগ মুহূর্তে সেনাবাহিনী সদস্যরা এসে সন্ত্রাসীদের ওপরে ব্যাপক লাঠিচার্জ চালিয়ে হটিয়ে দেয়। পরে সেনাবাহিনীর দেওয়া নিরাপত্তায় জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জিএম কাদের বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে ঢালাওভাবে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা ও মামলা মোকদ্দমা দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছে। পুলিশের মনোবল ফেরাতে সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই। পুলিশ প্রশাসনকে অকার্যকর করা হয়েছে।
যেহেতু সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়া। এই সরকার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দেশের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে এই সরকার দেশকে আগুনের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, এই সরকার নির্বাচনের নামে প্রহসনের আয়োজন করবে। আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করে এই সরকার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। শুধু মিছিল মিটিং নয়, এই সরকারের আমলে ইফতার পার্টিও করতে দিচ্ছে না।
তারা নিজেদের লোক দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করেছে। সেই দলকে ক্ষমতাসীন করার জন্য সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সঠিক নির্বাচন সম্ভব নয়।
এই সরকারের চলে যাওয়া উচিত, তারা দেশ চালাতে পারছে না। এই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনও দিতে পারবে না। বর্তমান সরকারের কিছু লোক জ্ঞানী-গুণী। কিন্তু, তাদের দেশ চালানোর কোন অভিজ্ঞতা নাই। তাদের কোন প্রস্তাবনা বাস্তব সম্মত হবে না। এই সরকার দেশকে বিভক্ত করে ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী উগ্রপন্থি এবং রক্ষণশীলদের এক করেছেন, আর উদারপন্থিদের ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অপবাদ দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে ভিন্ন মতালম্বীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই, মনে হচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। দেশের অর্ধেক মানুষকে বাদ দিয়ে তারা একটি রাজনীতি করতে চাচ্ছে, তাতে দেশ ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু-সহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।