শিরোনাম :
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে ৩ জন আটক সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা হতে পারে: জামায়াত আমির কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে ৩ শর্ত ইরানের, প্রস্তুত ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্যও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস : যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় তিতাসের আরেক কূপের গ্যাস গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে: অর্থমন্ত্রী জাজিরায় চাঁদাবাজদের হুমকি ও অপপ্রচারে চাপের মুখে ‘ইলিশ পোলাও’ র মালিক ইকবালসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌপ্রধানের সফররত চীনা নৌবাহিনী জাহাজ পরিদর্শন ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি, আজও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউজে ঢুকতে পারলেন না সিএনএনের সাংবাদিক মধ্য বাড্ডায় স্টাফ বাসে আগুন

জাজিরায় চাঁদাবাজদের হুমকি ও অপপ্রচারে চাপের মুখে ‘ইলিশ পোলাও’ র মালিক ইকবালসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

  • ১০:৪৭ এএম, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
পদ্মাব্রীজের অপরপাশে শরীয়তপুরের জাজিরায় ব্যবসা করতে গিয়ে স্থানীয় চাঁদাবাজদের চাপের মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক ইকবাল হোসেন। তার মালিকানাধীন বিখ্যাত ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টের বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রেস্টুরেন্ট মালিক বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে নিয়ম মেনে। আবেদন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে।
কারিগরি সক্ষমতা যাচাই হয়েছে। লাইন নির্মাণের ব্যয় বহন করেছেন গ্রাহক নিজেই। এমনকি যে জায়গা দিয়ে লাইন নেওয়া হয়েছে, সেই জমি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তারপরও সেই বিদ্যুৎ সংযোগকে ঘিরে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

কারণ, স্থানীয় চাঁদাবাজদের টাকা দেওয়া হয়নি। তাদের হুমকি, চাঁদা না দিয়ে এখানে কীভাবে ব্যবসা করেন, সেটা তারা দেখে নেবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চাঁদাবাজ চক্রের কাছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই জিম্মি। তাদের টাকা না দিলে ব্যবসা করা কঠিন। বিশেষ করে বরকত মোল্লা ও পলাশ নামে দুই চাঁদাবাজের কাছে স্থানীয়রা জিম্মি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় একটি সুবিধাবাদী মহলের আর্থিক দাবি পূরণ না হওয়ার বিষয়টি। ‘ইলিশ পোলাও’-এর মালিক চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক ইকবাল হোসেনের কাছে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগের মতো একটি প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়কে সামনে এনে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ইকবালের দাবি, নিয়ম মেনে নেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগকে ইস্যু বানিয়ে তার কাছে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি পূরণ না করায় এখন নানা ধরনের চাপ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের সময় অন্য একটি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ফিডারে পর্যাপ্ত লোড না থাকায় ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়।

আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেন। কোন ফিডারে পর্যাপ্ত লোড রয়েছে, নতুন লাইন নির্মাণে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোন পথ দিয়ে লাইন নেওয়া সম্ভব—এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান ইকবাল। তার দাবি, সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে লাইন নির্মাণের পুরো ব্যয়ও তিনি গ্রাহক হিসেবে নিজেই বহন করেছেন।

ইকবাল হোসেন বলেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা কারিগরি বিষয়গুলো যাচাই করে টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন লাইন নির্মাণের খরচও আমি নিজেই বহন করেছি। এ ছাড়া যে জায়গা দিয়ে লাইন নেওয়া হয়েছে, সেই জমি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

ইকবাল হোসেন জানান, মূলত স্থানীয় চাঁদাবাজদের টাকা না দেওয়ার কারণে তারাই পরিকল্পিতভাবে এসব করছেন।

অপপ্রচারের বিষয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান বলেন, টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড ছিল। কারিগরি দিক পর্যালোচনা করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। লাইন নির্মাণের কাজ গ্রাহকের নিজস্ব অর্থায়নে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রয়োজনে আরও অনেককেই এই সংযোগ দেওয়া যাবে। এতে টোল প্লাজা বা অন্য কারও কোনো সমস্যা হবে না।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় জানিয়েছেন, সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গা ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মে অনুমতি নিয়েছে। এ জন্য এককালীন ভাড়ার শর্তও ছিল। পুরো আইন মেনেই এখানে সংযোগ ও খুঁটি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এই চাঁদাবাজ চক্রের কাছে তারা জিম্মি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ইকবাল হোসেনের পরিচিতি ও আর্থিক সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বিভিন্ন সময়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই চক্রের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজন অসৎ যুবকও জড়িত বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

ইকবাল হোসেন বলেন, আমি নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো সংযোগ নিইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি, তারা কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি এ নিয়ে অপপ্রচার করা হয়, তার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিই প্রশ্ন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech