।।বিকে ডেস্ক।।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগে শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে মূল লড়াই হতে পারে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে।
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগারগাঁওয়ের ইসি ভবনে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোটের নিরপেক্ষ পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জানান, ভোটের দিন পরিস্থিতি খারাপ হলে তারা প্রার্থী নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর জবাবে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, “কোনো অভিযোগকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তবে নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ আমরা পাইনি।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৯ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। এ ছাড়া চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ৩ হাজার ১৫২ জন প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য মোট ২৮৯টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়লাভ করেন। কিন্তু গত ২১ আগস্ট তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়, যার ফলেই আজকের এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।