শিরোনাম :
পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পরিকল্পনা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের ভারতে বসে দেশে ফেরার ছক কষছেন আ’ লীগ নেতারা ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা ভোট বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ১১ দলীয় জোটের: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: যমুনার সামনে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি জাবেরের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক : তাসনিম জারা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে, বললেন ট্রাম্প প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং: ৮.০২ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অর্ডার পেল বাংলাদেশ

আওয়ামী অনুসারীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে এনসিপি: মির্জা আব্বাস

ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ কয়েকটি দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারীদের কাছ থেকে এনসিপি সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বুধবার ২৩ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গণতন্ত্র ফোরাম ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র, সংস্কার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন্।

মির্জা আব্বাস বলেন, প্রশাসনে বিএনপির লোকজন বসে নেই। প্রশাসনে থাকা আওয়ামী দালালদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে এনসিপি।

কর্মরত কয়েকজন সচিবের নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দালালদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগকে যারা পুনর্বাসন করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আপনার (ড. ইউনূস) আশপাশে আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট থেকে সতর্ক থাকুন। তারা আপনাকে ডিরেইল করে ফেলতে পারে।

নির্বাচনের ‘রোডম্যাপ’ প্রসঙ্গে বিএনপি ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি সন্তুষ্ট হতে পারেনি, যান সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট করেই তুলে ধরেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মুহাম্মদ ইউনূস বলছেন, কম সংস্কার হলে ডিসেম্বরে নির্বাচন হতে পারে। আর পুরোপুরি সংস্কার হলে আগামী জুনে নির্বাচন করতে হবে।

“আমি একটা কথা বলি, যেটা আমার নিজের কথা…এটা কিন্তু আমার দলের কথা না। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ভালো কিছু আশা করো, খারাপ কিছু চিন্তা করো’। আমি ভালো কিছু আশা করি। খারাপটা ভাবি এভাবে- সম্ভবত নির্বাচন খুব তাড়াতাড়ি উনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) করবেন না। আমি তার কোনো লক্ষণ আমি দেখি না।”

তিনি বলেন, ড. ইউনুস সাহেব বলেছেন, ডিসেম্বরে না হোক জুনে হবে। এই কথাটাই আপনাকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। একবার বললেন ডিসেম্বর, আবার বললেন জুন। বিব্রতকর অবস্থার জন্য আপনি নন, এটার জন্য আপনি দায়-দায়িত্ব বহন করেন না।

সাংবাদিকরা তার বক্তব্য টুইস্ট করছেন অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি কথা বললেই দেশি-বিদেশি কিছু সাংবাদিক টুইস্ট করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করেন।

নির্বাচন দ্রুত না-ও হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির এ নেতা বলেন,‘আমরা সংস্কারও চাই, নির্বাচনও চাই। যে সংস্কার মানুষের প্রয়োজন, তার বাইরে অপ্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার নেই। নির্বাচনের বিকল্প নির্বাচন। দেশের মানুষের জন্য যে সংস্কারটুকু প্রয়োজন তা শেষ করেই নির্বাচন দিতে হবে।

বিদেশে বসে ব্লগাররা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়িয়ে বিদেশে বসে অপপ্রচার চালাচ্ছে ব্লগাররা। এরা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু। সবার কথা বলার অধিকার আছে। সত্যি কথা বলেন। মিথ্যা কথা বলে কারো চরিত্রহনন করবেন না। এখন তো দেশ স্বাধীন। দেশে এসে দেশ গঠনে কাজ করুন।

তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলেই ফেলেছেন যে, আমরা নির্বাচনে যাবো না। আরে ভাই, কয়েকদিন আগে হলে আপনারা নির্বাচনে গেলেই কি না গেলেই কি? আপনাদের চিনতো ক্যাডা বাংলাদেশে? এখন আপনারা নির্বাচনে যাবেন না, ধমক দেন। কোনো লাভ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমাদের দেশটা খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমাদের দেশের জাতির, জনগণের, দলের প্রত্যেকের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যদি বাংলাদেশের জনগণকে বিভক্ত করার যায় তাহলে এদেশে আবারও ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাতে চলে যেতে হবে।

সুতরাং যে দলই হোক বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ যত দল আছে.. মতবিরোধ থাকতেই পারে আমাদের। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আমাদেরকে একটা কথা মনে রাখতে হবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

জুলাই-অগাস্টে যেমন দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য দেখা গেছে, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কিছু লোক ছাড়া পুরো জাতি যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেটিকে দেশের মানুষের একমাত্র ‘অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি, যা দিয়ে ফ্যাসিস্ট ও হানাদারদের বিতাড়িত করা হয়েছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, এখনো এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, আমাদের বিপরীত শক্তি আমাদের দ্বিধা-বিভক্ত করার চেষ্টা করছে সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

আরে ভাই, বিএনপি কোথাও নাই। এসব কথা বলবেন না। ১৬ বছর দেশের প্রশাসনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, সচিবালয়ের ভেতরে ফ্যাসিস্টদের দোসর, দেশের শত্রুগুলো বসে আছে, আওয়ামী লীগের দালালরা বসে আছে।

তাদের কেন আপনারা বের করেন না? আমি যদি বলি তাদের কাছ থেকে আপনারা অবৈধ সুবিধা পাচ্ছে?

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস বলেন, আমি এক সময়ে অবিভক্ত ঢাকার মেয়র ছিলাম, এটা গর্বের বিষয়। আমার মনে হয়, আল্লাহর রহমতে খারাপ চালাইনি। এই ঢাকাকে দুই ভাগ করল আওয়ামী লীগ। কাজটা কিন্তু ভালো করে নাই।

অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এখন যদি দুই ঢাকা যদি এক করে তাহলে প্রক্রিয়া আছে, শুধু এক করলে হবে না। এখন ঢাকা খুব বড় হয়েছে, এক করলেই হবে না। সুবিন্যস্ত একটা প্রশাসন তৈরি করতে হবে।

গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও গণতন্ত্র ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান টিপু।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech