শিরোনাম :
স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি ১৭ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, পুলিশ ছিল এক নম্বরে বিদায়ী বক্তব্য বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল সৌদির তেলবাহী ৮ জাহাজে হামলার দাবি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফ-এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ‘পারস্পরিক আস্থা’ অর্জনের পর: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকাসহ ৭ বিভাগে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির আভাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে দলীয় এমপিদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান কলকাতার নিউমার্কেটে হোটেলে আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানি ও সার সরবরাহ চুক্তির নীতিগত অনুমোদন

বিদায়ী বক্তব্য বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

  • ১২:১৫ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
আগামীকাল হয়তো এই দল থেকেই আমাকে পদত্যাগ করতে হবে- বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার ১৯ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, চিফ হুইপের পর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কখনো চোখের পানি মুছেছেন, কখনো কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মরণ করেছেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধাদের।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে।

কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, এরপর দীর্ঘদিন মহাসচিব বিএনপির নানা কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সুখ-দুঃখ, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা কিংবা জেল-জুলুমনকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি দল ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সাংবিধানিক নিয়মে তাকে বিএনপির মহাসচিবের পদ ছাড়তে হবে। সেই বিদায়ের কথাই যেন তাকে সবচেয়ে বেশি আবেগতাড়িত করে তোলে।

তিনি দলের নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, নতুন দায়িত্বে থেকেও তিনি যেন দেশের মানুষের জন্য একজন কল্যাণমুখী ও নিরপেক্ষ অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

সভায় উপস্থিত নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বক্তব্যে কয়েক দফা আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

রাজনীতিতে পদ বদলায়, দায়িত্ব বদলায়, কিন্তু দীর্ঘ পথচলার সম্পর্কগুলো সহজে বদলায় না, আজকের বিদায়ী মুহূর্তটি যেন তারই একটি আবেগঘন প্রতিচ্ছবি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মির্জা ফখরুলের এই বিদায়ী বক্তব্য তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিদায় নয়; বরং বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকলো।

সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দিতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব না বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে।

তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে ভোট চান।

তিনি সংসদ সদস্যদের জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

উল্লেখ্য, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাঁকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।

বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech