শিরোনাম :
মক্কা চুক্তিতে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়: বিরোধীদলীয় নেতা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান, নজরুলই মূল অনুপ্রেরণা: রিজভী নেপালে বন্যা : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ অন্তত ১৪০০- পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা লোন প্রতারণা: ৩১ অবৈধ অ্যাপে লেনদেন না করতে সতর্ক করল গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ নেপালকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা নেপালে স্মরণাতীত কালেল ভয়াবহ হড়পা বন্যা: জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু আজ ‎স্রোতে ভেসে যাওয়া নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার আজ জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যবার্ষিকী

নেপালে বন্যা : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ অন্তত ১৪০০- পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা

  • ১২:২৯ পিএম, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ২ দিন আগে ঘটা আকস্মিক বন্যার পর এ পর্যন্ত ৪৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি।

শুক্রবার ২৮ আগস্ট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তরা আরও বলেছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা।

এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে আকস্মিক বন্যায় নদীর পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে এসে স্থানীয় শহর, জনপদ ও উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় ভোতি কোশি নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে গত ২৬ আগস্ট বুধবার সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় আঘাত হানে এ বন্যা। লাখ লাখ টন কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকা, নিখোঁজ হন বহুসংখ্যক মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নেপাল ও চীনের সরকারি মুখপাত্রদের বরাতে জানা গিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং জেলায় নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৩৮৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮২৬ জন নেপালের এবং ৫৫৮ জন তিব্বতের। এই নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ৫০০ জন এবং তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ২৬০ জন বিদেশি।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগের একদিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তিব্বতের ভূমিধসকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। সেখানে তিনি জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটক ও নাগরিক নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ১০০ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।

দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছানোই উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মিনেল ফার্নান্দেজ জানান, সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা- পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়েছেন নিখোঁজরা। নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে জীবিতদের সন্ধান করেছে এবং শহর ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী ফেলেছে।


আর জরুরি পরিষেবা কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধান করছে, উদ্ধার মরদেহগুলোর সৎকারের ব্যবস্থাও করছে।
রাসুওয়ার স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকি বলেন, ‘যেদিকেই তাকাই, ধ্বংসযজ্ঞ। নদীর পাশের বসতিগুলো পুরোপুরি ভেসে গেছে। আমার নিজের পাঁচজন আত্মীয় নিখোঁজ।’

দুর্যোগের সময় তিব্বতের কৈলাস পর্বত ও মানসসরোবর হ্রদে তীর্থযাত্রায় থাকা লোকজনও বিপদের মধ্যে পড়েছেন। হিন্দু, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে উচ্চভূমির এসব স্থান পবিত্র হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক সহায়তা

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা একজন দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক পরামর্শককে নেপালে পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বন্যাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কানাডার কর্মকর্তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, নেপালের ত্রাণ কার্যক্রমে জাতিসংঘের বৈশ্বিক জরুরি তহবিল সিইআরএফ থেকে ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে জানিয়েছিলেন, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তাকর্মী পাঠানো হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, দুর্গম এলাকায় স্থানীয় অবকাঠামো ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে

এই ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে বলে মনে করেন জলবায়ু ও জননীতি বিশেষজ্ঞ সুনীল আচার্য।

কাঠমান্ডু থেকে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি অনির্দেশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; জলবায়ু সংকটের সম্মুখসারিতে বসবাসের বাস্তবতা এই বিপর্যয়ের মাধ্যমে নির্মমভাবে ফুটে উঠেছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech