।।বিকে স্পোর্টস।।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম সেশন নিজেদের করে রাখল সফরকারী বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট শিকার করেছে টাইগার বোলাররা।
বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ওভালে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের তিন পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। লাঞ্চ বিরতির আগে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪ রান।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ দুই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে সাজঘরে ফেরান। এরপর এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদও উইকেট শিকারে যোগ দেন। সেশনের শেষ দিকে তাসকিনের বলে ক্যামেরন গ্রিনকে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই ক্যাচটি নেন।
লাঞ্চে স্টিভেন স্মিথ অপরাজিত থাকলেও শুরুটা ছিল বেশ ভাগ্যনির্ভর। ২৫ বল খেলে দুই রানে থাকা অবস্থায় একবার জীবন পান তিনি।
বাংলাদেশের তিন পেসার পুরো সেশনজুড়েই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ব্যাটের দুই প্রান্তে আক্রমণ চালিয়ে যান।
হাসান মাহমুদ ছিলেন বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল। কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে টেস্টে নামা এই পেসার প্রস্তুতি ম্যাচেও চার উইকেট নিয়েছিলেন। ট্রাভিস হেডকে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে রাখেন তিনি। জেক ওয়েদারাল্ডকে একের পর এক দারুণ সুইংয়ে পরাস্ত করছিলেন হাসান।
প্রথম স্পেলে উইকেট না পেলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তাকে বোলিংয়ে ধরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত দ্বাদশ ওভারে ওয়েদারাল্ডকে ২৩ রানে ফেরান হাসান। তার সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ওয়েদারাল্ড।
এরপর হেডকেও সাজঘরের পথ দেখান হাসান। নিজের স্টাম্পে বল টেনে এনে আউট হন হেড। তার ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। আউট হওয়ার সময় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। কারণ এর আগের বলেই হাসানের বলে কভার দিয়ে দারুণ একটি চার মেরেছিলেন হেড।
এরপরও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বেশ কয়েকবার পরাস্ত করেন বাংলাদেশের বোলাররা। দুই রানে থাকা স্মিথকে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও সেটি ধরে রাখতে পারেননি তানজিদ হাসান। তবে এবাদতের বলে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ দ্বিতীয় স্লিপে দুর্দান্তভাবে তালুবন্দী করেন শান্ত। উইকেট পেয়ে নিজের চিরচেনা কায়দায় স্যালুট উদ্যাপন করেন এবাদত।
২১তম ওভারে স্মিথের বিপক্ষে উইকেটের পেছনে ক্যাচের জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ। এবাদতের বলে স্মিথের ব্যাট ছুঁয়ে বল গেছে বলে মনে করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে পুনরায় দেখার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, ব্যাটে বলের কোনো স্পর্শ ছিল না।
সেশনের শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ক্যামেরন গ্রিনকে ১৩ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত সেশনের পরিসমাপ্তি ঘটান। তার বল মিডউইকেটে তুলে দিলে সহজ ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। এর আগে একই ওভারে ছক্কা মারতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিয়েছিলেন গ্রিন।
বাংলাদেশের পেসাররা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের আক্রমণাত্মকভাবে চাপে রাখার যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, প্রথম সেশনেই তার দারুণ বাস্তবায়ন দেখা গেল।