।।বিকে ডেস্ক।।
এতদিন দেশের গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া গেলেও, এবার তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছে খোদ রাজধানী ঢাকা।
বুধবার ১২ আগস্ট দিবাগত রাতেও কোথাও কোথাও একটানা এক থেকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। তীব্র গরমের মধ্যে মধ্যরাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লম্বা সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে।
ভ্যাপসা গরম আর মশার উপদ্রবে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, রাত ৯টা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় লোডশেডিং চলছে।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন গার্ডেন, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার, লালমাটিয়া এবং মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাঝরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। আগের তুলনায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল দিয়েও রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে, কাজীপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, গত তিন বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ঢাকায় মাঝরাতে এমন দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
চলমান গ্যাস–সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি হচ্ছে। বুধবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গত রবিবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সোমবার এটি বেড়ে হয় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। মঙ্গলবার এটি হয় ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট আর বুধবার ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।
পিডিবি ও আরইবি সূত্র বলছে, ১১ আগস্ট রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং হয় ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৩৪ মেগাওয়াট।
এদিকে গ্যাসের সরবরাহও কমেছে। গতকাল দেশে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট, বিপরীতে চাহিদা ছিল ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার বলেছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।